সিলেট, ১৫ আগস্ট : চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা নির্ধারণসহ ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে সিলেট নগরীর কুমারপাড়ায় শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর বাসভবনে সাক্ষাৎ করে চা শ্রমিক নেতারা এসব দাবি জানান। সাক্ষাৎকালে শ্রমিকদের অধিকার, ভূমি এবং জীবনমান উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ৮ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন নেতৃবৃন্দ।
এ সময় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী চা শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শোনেন। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করার আশ্বাস দেন তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, চা বাগানগুলোর বর্তমান বাস্তবতা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হবে। তদন্ত টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্মারকলিপিতে চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা নির্ধারণসহ মোট ৮ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বর্তমানে ১৮৭ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বসতভিটার স্থায়ী মালিকানা নিশ্চিত করা এবং সুলভ বাসগৃহের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি শ্রম আইনে চা শ্রমিকদের ছুটি, গ্র্যাচুইটি ও উচ্ছেদসংক্রান্ত বৈষম্যমূলক ধারাগুলো সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া চা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং সরকারি চাকরিতে চা শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি রয়েছে। চা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২১টি উপজেলায় ‘চা জনগোষ্ঠী শিল্পকলা একাডেমি’ স্থাপনেরও দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে অবশিষ্ট ৬৭টি চা জনগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি ঐতিহাসিক ‘মুল্লুকে চল’ আন্দোলনের দিন ২০ মে-কে সরকারি স্বীকৃতিতে ‘চা শ্রমিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়েছে।
চা শ্রমিক নেতারা আশা প্রকাশ করেন, এসব দাবি বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং চা শ্রমিকদের জীবনমান ও অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পংকজ এ কন্দ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, বিজয় হাজরা, সাংগঠনিক সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, রাজু গোয়ালা, অর্থ-সম্পাদক ধনা বাউরী, কমল বুনার্জী, দেবু কাউরী ও রতন পালসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

উৎফল বড়ুয়া :